প্রচ্ছদ > আন্তর্জাতিক >

‘চিকেনস নেকে’র নিরাপত্তায় নতুন ছয় লেনের সেতু, ব্যয় ৮৪৪ কোটি টাকা

article-img

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ শিলিগুড়ির ‘চিকেনস নেক’। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে তিস্তা নদীর ওপর পুরোনো করোনেশন সেতুর বিকল্প হিসেবে নতুন ছয় লেনের সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রায় ৮৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে  নির্মিত হবে নতুন সেতু ও এর সংযোগকারী সড়ক। প্রকল্পের জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বান করেছে ভারতের জাতীয় মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ। আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত যোগ্য নির্মাণ সংস্থা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো এতে অংশ নিতে পারবে।

প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে।

শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের স্থল যোগাযোগের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ করিডর। পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাংশের এই সরু ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর সঙ্গে দেশের বাকি অংশের যোগাযোগ রয়েছে।

এ কারণে এই অঞ্চলে বিকল্প সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলাকে দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্ব দিয়ে আসছে ভারত সরকার।

তিস্তার ওপর থাকা করোনেশন সেতুটি অনেক পুরোনো। শিলিগুড়ি থেকে সিকিম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দিকে যাতায়াতের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী ও পণ্যবাহী যান এই সেতু দিয়ে চলাচল করে। ফলে পুরোনো সেতুর ওপর বাড়তে থাকা যানবাহনের চাপ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে।

নতুন সেতু চালু হলে পুরোনো করোনেশন সেতুর ওপর নির্ভরতা কমবে। পাশাপাশি শিলিগুড়ি থেকে সিকিম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দিকে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন আরও দ্রুত ও নিরাপদ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। তবে প্রশাসনিক কারণে সেই প্রক্রিয়া বাতিল হয়ে যায়। পরে সেতুটিকে চার লেনের পরিবর্তে ছয় লেন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ভবিষ্যতে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি, আঞ্চলিক যোগাযোগের সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়েই নকশায় এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নতুন সেতুর আরেকটি বড় সুবিধা হবে জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা হিসেবে এর ব্যবহার। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস, অতিবৃষ্টি বা বন্যার কারণে কোনো একটি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে নতুন সেতু ও সংযোগ সড়ক দিয়ে যান চলাচল চালু রাখা সম্ভব হবে। এতে কোনো একটি পথ বন্ধ হয়ে গেলেই পুরো অঞ্চলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি কমবে।

নতুন সেতু নির্মাণ হলে সিকিমমুখী পর্যটন, পণ্য পরিবহণ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগেও গতি আসতে পারে।


আরো খবর